প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২২, ২০২৬, ২:৫৪ পি.এম
১.৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: চলতি জুন মাসের মধ্যেই বাংলাদেশকে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন
ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থনীতির ওপর বৈশ্বিক অস্থিরতার চাপ মোকাবিলা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত সহায়তার মধ্যে রয়েছে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প থেকে পুনর্বিন্যাস করা প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার, খাদ্য নিরাপত্তা ও সার আমদানির
জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কার কর্মসূচির জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সার আমদানির
ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উন্নয়ন
সহযোগীদের কাছে জরুরি বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়, যার অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক উল্লেখযোগ্য অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের র্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশ চলমান প্রকল্পগুলোর একটি অংশের অর্থ পুনর্বিন্যাস করে জরুরি খাতে ব্যবহার করতে পারবে। এর মাধ্যমে খাদ্য
ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে সহায়তা পাওয়া যাবে। এদিকে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের জন্য নির্ধারিত ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়ের সঙ্গে একাধিক সংস্কার শর্ত যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা জোরদার, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে
কঠোর নিয়ন্ত্রণ, করপোরেট সুশাসন উন্নয়ন এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন
কাঠামো গড়ে তোলা। সরকার ইতোমধ্যে আমানত সুরক্ষা আইন সংশোধন, সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দেউলিয়াত্ব বিষয়ক নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য
বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংক তাদের মূল্যায়নে বলেছে, ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের সুশাসন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে আর্থিক ঝুঁকি বেড়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত অর্থায়ন অনুমোদিত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি আসবে এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের চলমান উদ্যোগ আরও গতি পাবে। একই সঙ্গে খাদ্য ও সার আমদানির
ব্যয় নির্বাহেও সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংক আশা করছে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more