অনলাইন ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(অও) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের হেনস্তা করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কন্নড় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় উঠতি তারকা রুক্মিণী বসন্ত। তাঁর চেহারা ব্যবহার করে তৈরি করা আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রবিকুমার (২৪), চন্দ্রকান্ত
(৩৩) এবং রঞ্জিত (২৫)। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। বর্তমানে আসামিদের আদালতের নির্দেশে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুক্মিণী বসন্তর বেশ কিছু বিকৃত ছবি ও ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। ছবিতে তাঁকে বিকিনি পরা অবস্থায় দেখা যায় এবং দাবি করা হয়, এগুলো তাঁর একটি নতুন সিনেমার শুটিংয়ের দৃশ্য। তবে রুক্মিণী গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানান যে, এগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া ও এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভুয়া বা 'ডিপফেক' কনটেন্ট। বিষয়টিকে নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
"আমার নামে যে ছবিগুলো ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ কৃত্রিম এবং এর সাথে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত।"
অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ মাঠে নামে এবং এই চক্রের তিন সদস্যের সন্ধান পায়। তাদের বিরুদ্ধে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় ন্যায়সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, ইন্টারনেটে এই ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
'সাপতা সাগারাডাছে এলো' সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে রুক্মিণী বসন্ত দর্শক ও সমালোচকদের নজরে আসেন। গত বছর 'কানতারা'র দ্বিতীয় কিস্তিতে অভিনয় করেও তিনি বেশ প্রশংসিত হন। বর্তমানে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে বেশ কিছু বড় প্রজেক্ট। আগামীতে তাঁকে কন্নড় সুপারস্টার যশের বিপরীতে 'টক্সিক' এবং জুনিয়র এনটিআরের সঙ্গে 'ড্রাগন' সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ
চরিত্রে দেখা যাবে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের
মতে, তারকাদের এমন ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা প্রযুক্তির অন্ধকার দিককে বারবার সামনে নিয়ে আসছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্য: ইত্তেফাক/ বিডিফেস
মেহেদী হাসান