প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২০, ২০২৬, ১২:১০ পি.এম
বেইজিং সফরে তিস্তা প্রকল্প ও ১৭ চুক্তিই মূল ফোকাস
অ-অ+
অনলাইনডেস্ক:
নতুন
সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম
দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামীকাল রবিবার ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীন—এই
দুই দেশ সফরের মধ্যে চীনের বেইজিংয়ের সঙ্গেই ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের
নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে
প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি
চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রজেক্ট। শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ
ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এই দ্বিপক্ষীয় সফরের
বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বেইজিংয়ের এই উচ্চপর্যায়ের সফরে
শুধু আনুষ্ঠানিক চুক্তিই নয়, বরং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক
স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা হবে। সফরের মূল আকর্ষণ ও সম্ভাব্য চুক্তিমালা:
পররাষ্ট্র সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে
মোট ১৫ থেকে ১৭টি
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে,
যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (গড়ট), দুটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি বিশেষ প্রটোকল। তিস্তা প্রকল্পের নতুন মোড়: ভারতের পাশাপাশি চীনের পক্ষ থেকেও তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে
অর্থায়নের প্রস্তাব ছিল, আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের
জবাবে পররাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিস্তা
প্রকল্প নিয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হবে। সীমিত আকারের প্রতিনিধি দল: সাশ্রয়ী ও কার্যকর কূটনীতির
অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে
প্রতিনিধি দলের আকার বেশ ছোট রাখা হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও চীন—দুই
দেশেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মাত্র ২৭ থেকে ২৮
জন প্রতিনিধি থাকছেন। সফরের সূচি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর যাবেন এবং সেখানে শ্রমবাজার ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক
সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পর, সোমবার বিকেলে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে
বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও
প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সাথে
তাঁর উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর এই
প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে চীনের সাথে আলোচনা এবং বিপুল সংখ্যক চুক্তি স্বাক্ষর ঢাকার বহুমাত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির
এক বড় পরীক্ষা হতে
যাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more