প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৬, ২০২৬, ৪:২০ এ.এম
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: চীনের
বেইজিংয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ আজ শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট
শি জিনপিং। ৪ দিনের সরকারি চীন সফরের শেষ দিনে আয়োজিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটিকে দুই
দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'নতুন যুগের সূচনা' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্বিপাক্ষিক
কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার মতো বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই বৈঠককে ঐতিহাসিক
আখ্যা দিয়ে জানান, আগামীতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে
না, বরং তা বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে রূপ নেবে; যার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক
এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছাবে। দায়িত্ব
গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর, যা শুরু
হয়েছিল গত ২১ জুন মালয়েশিয়া ভ্রমণের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিশেষ সম্মেলনে অংশ নেন এবং গত বুধবার বুলেট ট্রেনে
করে বেইজিং পৌঁছান। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়
লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সফরের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী
লি ছিয়াংয়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে
দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া তিস্তা
নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি সহযোগিতা এবং
বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার মতো বড় বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও
এই সফরে চূড়ান্ত রূপ পায়। আজকের
শীর্ষ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান
বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক
অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজিয়ে তাঁকে বিশেষ
গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও মিতব্যয়ী এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন,
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ মাত্র ২৪ সদস্যের একটি ছোট ও কার্যকর
প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। আজ বিকেলেই বেইজিংয়ের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান
ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর
সফরসঙ্গীদের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যা দুই দেশের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক
অংশীদারিত্বে এক বড় মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more