প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৪, ২০২৬, ২:৪২ পি.এম
‘ফ্রিম্যাসন’ পর্দার আড়ালের গুপ্ত সাম্রাজ্য
অ-অ+
বিশেষ প্রতিবেদন: বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও রহস্যঘেরা সংগঠনগুলোর
মধ্যে ফ্রিম্যাসন অন্যতম। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
সংগঠনটিকে ঘিরে নানা আলোচনা, বিতর্ক ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব
প্রচলিত রয়েছে। একদিকে সংগঠনটি নিজেকে ভ্রাতৃত্ব, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণমূলক আদর্শের
ধারক বলে পরিচয় দেয়, অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ দাবি করেন, ফ্রিম্যাসন একটি গোপন শক্তি, যা বিশ্ব রাজনীতি
ও সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে প্রভাব বিস্তার করে। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, “ফ্রিম্যাসন” শব্দটি “ফ্রি” এবং “ম্যাসন” শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আধুনিক ফ্রিম্যাসনরির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ১৭১৭ সালে লন্ডনে গ্র্যান্ড লজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
গড়ে ওঠে বলে ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশ মনে
করেন। তবে সংগঠনটির উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প তত্ত্বও প্রচলিত রয়েছে। ফ্রিম্যাসনদের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ গোপনীয়তার
আড়ালে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ
রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের মধ্যে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড সাধারণ সদস্যদের কাছেও পুরোপুরি উন্মুক্ত নয়। যদিও এ ধরনের দাবির
স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন প্রতীক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে। স্কয়ার ও কম্পাস, “অল
সিয়িং আই” এবং “এ” অক্ষরকে কেন্দ্র
করে নানা ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এগুলো নৈতিকতা, জ্ঞান ও আত্মউন্নয়নের প্রতীক;
তবে সমালোচকদের একাংশ এসব প্রতীকের মধ্যে গোপন আদর্শিক বার্তার উপস্থিতি দেখেন। ফ্রিম্যাসনদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো বিশ্ব রাজনীতি ও সামাজিক পরিবর্তনের
ক্ষেত্রে তাদের কথিত প্রভাব। বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বে দাবি করা হয় যে, ইতিহাসের
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপ্লব, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সামাজিক আন্দোলনের পেছনে ফ্রিম্যাসনদের ভূমিকা ছিল। তবে মূলধারার ইতিহাসবিদদের বড় অংশ এসব
দাবিকে অপ্রমাণিত বলে মনে করেন। বাংলাদেশেও ফ্রিম্যাসনদের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। কিছু গবেষক ও ইতিহাস-আগ্রহী
ব্যক্তির দাবি, ব্রিটিশ আমলে ঢাকায় একটি ম্যাসনিক হল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
তবে এর বর্তমান অবস্থা
ও ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রিম্যাসনকে ঘিরে বাস্তব ইতিহাস, লোককথা এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব—এই তিনটি বিষয়
প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে সংগঠনটি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্রিম্যাসন কি কেবল একটি
ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বমূলক সংগঠন, নাকি এর পেছনে আরও
গভীর কোনো বাস্তবতা রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তর
নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।
(এই
প্রতিবেদনটি বিভিন্ন প্রচলিত দাবি ও আলোচনার ভিত্তিতে
উপস্থাপিত একটি বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ প্রতিবেদন।)
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more