প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২২, ২০২৬, ৫:৩২ এ.এম
হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ এবার স্পর্শ করল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান
ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’কে। সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রেষারেষি এক নতুন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা
ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিতে পারে। ফক্স নিউজকে
দেওয়া দীর্ঘ ২০ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের এই সম্ভাব্য কঠোর পরিকল্পনার
কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন মনে হয়, তবে মার্কিন
সামরিক বাহিনী এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেবে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প প্রস্তাব করেন
যে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা রক্ষাকর্তা হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
আর এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল বা শুল্ক আদায় করা এবং পার হওয়া
মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ নিজেদের দাবি করার পরিকল্পনাও রয়েছে ওয়াশিংটনের। এই নতুন
দ্বিমুখী সংকটের শুরু মূলত লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ২০
জুন (শনিবার) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের সামরিক কমান্ডের বরাতে জানায়, ইসরায়েল
কর্তৃক লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ অবসানের খসড়া চুক্তি বাস্তবায়নে মার্কিন
ব্যর্থতার প্রতিবাদ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ইরানের
এই হুমকির পরই কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্প। লাইভ ফোনালাপেই তিনি তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ করে বলেন, সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে বৈঠকে
থাকা ইরানি কূটনীতিকদের তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমি তাদের
বলেছি, তোমরা যদি এই পথ বন্ধ করো, তবে তোমাদের কোনো দেশই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি তোমরা
নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ পাবে না।" এখানেই
শেষ নয়, নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে লেবাননের
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ইরানের মদদ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, ইরানকে
অবিলম্বে তাদের অর্থপুষ্ট প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে হবে। তা না করা
হলে গত সপ্তাহের চেয়েও আরও মারাত্মক আকারে ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ বা হামলা চালানো
হতে পারে। এদিকে,
আন্তর্জাতিক আইন ও জলপথের অধিকার লঙ্ঘন করে কীভাবে একটি সার্বভৌম অঞ্চলের প্রণালি দখল
বা সেখানে শুল্ক আরোপ করা সম্ভব—সে বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো আইনি বা বাস্তব
রূপরেখা এখনো স্পষ্ট করেনি হোয়াইট হাউজ। তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে
কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান চলমান
সুইজারল্যান্ড শান্তি আলোচনাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তথ্য:
ইত্তেফাক/ বিডিফেস মেহেদী
হাসান
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more