মোহনগঞ্জে দুই শিশুর লাশ নিয়েও পুলিশকে জানায়নি হাসপাতাল
Date: 2026-06-20
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২০, ২০২৬, ৫:০৬ এ.এম
মোহনগঞ্জে দুই শিশুর লাশ নিয়েও পুলিশকে জানায়নি হাসপাতাল
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়েবাড়ির উৎসবের মাঝে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই সহোদর বোনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক বড় ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা সামনে এসেছে। সরকারি নিয়ম মেনে অপমৃত্যুর (ইউডি) ঘটনা পুলিশকে জানানোর কথা থাকলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা না করায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু— নিহা আক্তার (৭) ও নোহা আক্তার (৩)— ওই গ্রামের পেশায় হ্যান্ডট্রলি চালক নিজাম উদ্দিনের একমাত্র সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিনের ভাগ্নির বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে উৎসবের আমেজ ছিল। স্বজনরা সবাই যখন মেহমানদারি ও বিয়ের নানা আয়োজনে ব্যস্ত, তখন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যায় দুই বোন। বেশ কিছু সময় তাদের না দেখে খোঁজাখুঁজির পর পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তবে এই দুঃখজনক ঘটনার পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভূমিকা নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যুর শিকার রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতাল থেকে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখানে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলামও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "যেকোনো অপমৃত্যুর ঘটনা পুলিশকে দ্রুত জানানোর জন্য আমাদের স্টাফ ও চিকিৎসকদের বারবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কেন জানানো হলো না, সেটি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং হাসপাতালের এই গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেওয়ায় পুরো পাবই গ্রামে এখন শোকের ছায়া। অন্যদিকে, সরকারি একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের এমন উদাসীনতা স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more