প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৬, ২০২৬, ৯:৩৮ এ.এম
পবিত্র আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্য
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ইসলামী ইতিহাসে ও বিশ্ব মুসলিম মানসে মহররম মাসের দশম দিন অর্থাৎ 'আশুরা' এক অনন্য, গভীর ও বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। এটি একদিকে যেমন আল্লাহর অসীম রহমত ও নবী-রাসূলদের বিজয়ের এক অবিস্মরণীয় দিন, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার এবং ত্যাগের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। সৃষ্টির শুরু থেকে এই পবিত্র দিনে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে বলে বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া এবং লোহিত সাগরে অলৌকিক পথ তৈরি করে হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের বাঁচানো। একই সাথে এই দিনে মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ (আ.)-এর কিশতি জুদি পর্বতে এসে স্থির হয়েছিল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই দিনের ফজিলত অপরিসীম এবং এর প্রধান আমল হলো নফল রোজা পালন করা, যা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গণ্য হয়। তবে ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়াতে মহানবী (সা.) আশুরার দিনের সাথে মিলিয়ে মহররমের ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ—এই দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে ইসলামের ইতিহাসে আশুরার কথা মনে করলেই যে ঘটনাটি সবার আগে মুসলিম হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়, তা হলো ৬১ হিজরির কারবালার ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রাখতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বিশাল ও নিষ্ঠুর বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। কারবালার এই ঘটনা কেবল একটি শোকাবহ ইতিহাস নয়; এটি ছিল ইসলামের মূল চেতনা তথা ন্যায়বিচার, সততা এবং খিলাফতের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার এক চরম আত্মত্যাগ। ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে আপস না করে নিজের জীবন উৎসর্গ করে বিশ্ববাসীকে শিখিয়ে গেছেন যে, সত্যের পথে মাথা নত না করাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় পবিত্র আশুরা ও কারবালার চেতনা আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এটি আমাদের যেকোনো ধরনের জুলুম, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং চরম বিপদেও ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেয়। কারবালার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে এবং আশুরার ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করাই হোক এই দিনের মূল অঙ্গীকার। - মেহেদী হাসান
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more