প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৬, ২০২৬, ৪:৩৪ এ.এম
তিন নারী শিক্ষিকাকে পেটালেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে বিদ্যালয়ের ভেতর ঢুকে তিন নারী শিক্ষিকার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় মূল অভিযুক্ত শিক্ষককে সামনে না পেয়ে উপস্থিত নারী শিক্ষিকাদের মারধর ও লাঞ্ছিত করে ক্ষুব্ধ অভিভাবক এবং তার স্বজনরা। গুরুতর আহত অবস্থায় এক ধর্মীয় শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার 'সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে' এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আহত শিক্ষিকারা হলেন— বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮), ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) ও শিক্ষিকা সেলিনা বেগম (৫০)। এদের মধ্যে ঝর্ণা খাতুন সাথীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পড়া না পারার কারণে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনকে শাসন করেন স্কুলের পরিচালক সেলিম রেজা। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে প্রথমে তার মা লিপি খাতুন স্কুলে এসে শিক্ষকদের সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর, স্কুল পরিচালক সেলিম রেজা জরুরি কাজে বাইরে বের হলে, সুযোগ বুঝে শিক্ষার্থীর স্বজন উজ্জ্বল হোসেন মাল ও তার ছেলে বাসির মালসহ বেশ কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে স্কুলে হামলা চালায়। তারা মূল অভিযুক্ত সেলিম রেজাকে অফিসে না পেয়ে সেখানে উপস্থিত তিন নারী শিক্ষিকার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে শিক্ষিকারা বাধা দিলে ধর্মীয় শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে ক্লাসরুম থেকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্মম এই নির্যাতনে ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় জানান, "আহত শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত আছেন।" জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, "পড়া না পারায় আমি ছাত্রীকে সামান্য শাসন করেছিলাম। কিন্তু আমি স্কুল থেকে বের হতেই বহিরাগতরা এসে আমার নারী শিক্ষকদের ওপর এভাবে অমানুষিক নির্যাতন চালাবে তা ভাবিনি। আমি ইতিমধ্যেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।" ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মারধরের বিষয়টি পুলিশ অবহিত আছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবার বা স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more