প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:৫২ এ.এম
বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর বড় ছাড়ের প্রস্তাব
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমাতে এবং কর-ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা করা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের জোরালো প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বিতর্কিত কালোটাকা সাদা করার বিধান সম্পূর্ণ বাতিল করাসহ বেশ কিছু খাতে শুল্ক ও কর কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত কর ছাড়ের দাবিগুলো বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে তিনি নিজেই এই সুপারিশগুলো করছেন। সরকার করদাতাদের হয়রানি দূর করে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কর-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বাজেটে ২০নবহপয-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেন। পাশাপাশি পরবর্তী করবর্ষগুলোর জন্য এই সীমা যথাক্রমে সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি। জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত (কালোটাকা সাদা করার) বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এছাড়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, সম্পত্তি নামজারি ও বণ্টননামা দলিল নিবন্ধনে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বাতিলের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, এই সুবিধা পেতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে তাদের আয়কেও সম্পূর্ণ করমুক্ত করার সুপারিশ করেন তিনি। দেশীয় শিল্প ও রপ্তানি খাতের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী চিংড়িশিল্পের ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস ও যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। একই সাথে ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির সম্পূরক শুল্ক এবং পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিটের মতো বিভিন্ন শিল্প কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর এসব সংশোধনী প্রস্তাবনা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more