প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:১৩ এ.এম
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ফাটল
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রায় ‘অটুট’ বলে মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে সেই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আকস্মিক তৎপরতা এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে সমালোচনা তেল আবিবের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেক ইসরায়েলিই এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে, ট্রাম্পকে আর হোয়াইট হাউসে তাঁদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাবা যায় কি না। এই উদ্বেগের আগুনে ঘি ঢেলেছে সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারির ফলাফল, যেখানে ইসরায়েলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনপুষ্ট তিন ফিলিস্তিনপন্থী প্রার্থী তাদের ইসরায়েল-পন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। জেরুজালেমের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি-অধ্যুষিত শহর নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থীদের এই জয়কে ইসরায়েলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিজয়ী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, ইসরায়েল হয়তো আর বেশি দিন ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অন্ধ ও নিঃশর্ত সমর্থন পাবে না; ফলে বছরে শতকোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা, জাতিসংঘে ইসরায়েলবিরোধী প্রস্তাবে মার্কিন ভেটো এবং ইসরায়েলি দাতব্য সংস্থাগুলোর কর-সুবিধার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল সি কার্টজারের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক এখন এক গভীর খাদের কিনারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতা, হাজার হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং তীব্র খাদ্যসংকটের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মনে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিন নাগরিকেরা ইসরায়েলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন এবং প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কে ইসরায়েলের সাবেক কনসাল জেনারেল আসাফ জামিরসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকেরা মার্কিন জনমতের এই দ্রুত পরিবর্তনে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও ইসরায়েল এখনই চীন বা রাশিয়ার মতো অন্য কোনো পরাশক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ার কথা ভাবছে না, তবে প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমতে তৈরি হওয়া এই দৃশ্যমান টানাপোড়েন খুব দ্রুতই তেল আবিবের জন্য এক বড় ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more