প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৯, ২০২৬, ১:৩৭ পি.এম
বিশ্বনেতাদের সংগ্রামী শিক্ষাজীবন
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
বর্তমান ভূরাজনীতির গতিপ্রকৃতি যাঁরা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাঁদের ক্ষমতার পেছনের গল্পটা সব সময় মসৃণ ছিল না। বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ কিংবা বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ক্লাসরুম নয়, বরং জীবনের রুক্ষ বাস্তবতাই তৈরি করেছে আজকের শীর্ষ বিশ্বনেতাদের। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও জীবনবৃত্তান্তমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে 'জীবনের পাঠশালা' থেকে পাওয়া শিক্ষাই তাঁদের বিশ্বশাসনের মূল রসদ জুগিয়েছে। শৈশবের কঠিন দিনগুলোই আসলে বদলে দিয়েছে একেকজন রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্যের চাকা।
যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শৈশব কেটেছে রেলস্টেশনে চা বিক্রি করে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা সেই দিনগুলোই পরবর্তীতে তাঁকে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর গল্পটা আরও চরম বাস্তবতার। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ বয়সে তাঁকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিনিদ্র রাত কাটাতে হয়েছে পাহাড়ের প্রত্যন্ত গুহায়। মাটির নিচে সেই মানবেতর জীবনই তাঁকে শিখিয়েছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের গল্পটাও একই রকম লড়াইয়ের; একসময় জীবিকার তাগিদে তাঁকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে লেবুর শরবত ও রুটি বিক্রি করতে হয়েছে। আবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—দুজনের ব্যক্তিত্বের পেছনেই রয়েছে সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর কঠোর শৃঙ্খলা। পুতিনের সোভিয়েত আমলের কেজিবি গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে আজকের চতুর ও ধীরস্থির দূরদর্শী নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে। অপরদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হলেও শৈশবের উদ্ধত স্বভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল 'নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমি'তে। হোয়ার্টন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নিলেও ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল ওই সামরিক একাডেমির কঠোর নিয়মকানুনই। তবে শুধু পরিবেশ নয়, ব্যক্তিগত জীবনের বড় বড় ধাক্কা ও ট্র্যাজেডিও অনেক নেতাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এর একটি বড় উদাহরণ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বড় ভাই ফ্রেড ট্রাম্প জুনিয়র অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৯৮১ সালে অকালে মারা যান। ভাইয়ের এই করুণ পরিণতি দেখে তরুণ বয়সেই ট্রাম্প শপথ নিয়েছিলেন—জীবনে কখনো মদ, ধূমপান বা কোনো প্রকার মাদক স্পর্শ করবেন না। আজ দীর্ঘ কর্মজীবনেও তিনি সেই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলছেন, যা তাঁর অবিচল শক্তির একটি বড় কারণ। ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্বনেতাদের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষা তাঁদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দিলেও, বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার আসল কৌশল তাঁরা শিখেছেন জীবনের চরম প্রতিকূলতা, একাকীত্ব এবং ব্যক্তিগত সংকট থেকে। আর এই ‘বাস্তব শিক্ষার’ কারণেই আজ তাঁরা নিজ নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more