প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৬, ২০২৬, ৪:০৪ এ.এম
জবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি পেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ ফটকের সামনে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। পরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় নেতা-কর্মীদের ‘শিক্ষা, সন্ত্রাস—একসঙ্গে চলে না’, ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’ সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গতকাল ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়, যাতে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল এবং স্থানীয় যুবদলের ক্যাডাররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কোনো একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ছাত্রদলকে ছাত্রলীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন তাসিন জানান, প্রক্টরিয়াল বডির সামনেই অডিটোরিয়ামে যেতে চাওয়া প্রাক-প্রতিনিধিদের বাধা দেয় অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রদল কর্মীরা। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির সভাপতি, জকসুর ভিপি এবং ছাত্র ফ্রন্ট নেতাসহ বেশ কয়েকজনের ওপর যৌথ হামলা চালানো হয়েছে।
উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ ৫ দফা দাবি পাঠ করেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. হামলায় জড়িতদের অতি দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনের আওতায় আনা। ২. আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১,৬০০ শিক্ষার্থীর অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। ৩. সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা। ৪. ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা। ৫. সাধারণ শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া। উল্লেখ্য, হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়াতে ভারী পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more