প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৬, ২০২৬, ২:১৬ পি.এম
মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে শাস্তির বিধান হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার কারণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত তাদের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনে সংগৃহীত প্রত্যক্ষদর্শীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা সূত্র বাংলাদেশকে সরবরাহ করেনি জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এ কথা জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর জানান, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই তৎকালীন সরকারি দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর সশস্ত্র ক্যাডাররা ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার শর্ত দিয়েছিল জাতিসংঘ। তারা জানিয়েছিল, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বাতিলের নীতিগত অবস্থানের কারণে এবং আইনে এই সাজা বহাল থাকায় সংগৃহীত প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যসূত্র দেওয়া সম্ভব নয়। তবে জাতিসংঘ তথ্য না দিলেও প্রসিকিউশন নিজ উদ্যোগে প্রত্যক্ষদর্শীদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে সাক্ষ্য গ্রহণ নিশ্চিত করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ওপর একটি বিস্তৃত 'ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং' রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল ওএইচসিএইচআর। প্রতিবেদনটি তৈরির উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদল ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, সিলেট ও গাজীপুরসহ দেশের আটটি প্রধান শহর সফর করে। ওই সময় প্রত্যক্ষদর্শী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে প্রায় সাড়ে ২৬০টিরও বেশি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছিল।
আজকের শুনানি হওয়া মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। বর্তমানে এ মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more