যাত্রীবাহী বাসে হানা দিয়ে ১৫ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট
Date: 2026-08-06
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৬, ২০২৬, ৩:৩৮ এ.এম
যাত্রীবাহী বাসে হানা দিয়ে ১৫ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে অভিনব ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে যাত্রীবাহী বাসের গতি রোধ করে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে এক সংবদ্ধ ডাকাত দল। একটি গতিশীল সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে এক নারীর দেওয়া 'গোপন সংকেতে' সড়ক অবরুদ্ধ করে এ ডাকাতি সংঘটিত হয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রে গত সোমবার রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দুপুরে টেকনাফের দুটি ব্যাংক থেকে মোট ৮২ লাখ টাকা তোলেন বিকাশ এজেন্টের তিন বিক্রয় প্রতিনিধি—একরাম হোছেন (৩৫ লাখ টাকা), আল আরমান (২২ লাখ টাকা) এবং আবদুল করিম (২৫ লাখ টাকা)। টাকাগুলো হ্নীলা বাজারের গ্রাহকদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে তিনটি পৃথক ব্যাগে নিয়ে তারা ‘পালকি পরিবহন’-এর একটি বাসে ওঠেন। বাসটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। টেকনাফ স্টেশন থেকে বাসটি ছেড়ে যাওয়ার পরপরই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা কালো বোরকা পরা এক নারী ক্রমাগত বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকেন এবং মুঠোফোনে কারও সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বেলা পৌনে একটার দিকে বাসটি হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া ১৪ নম্বর সেতুর কাছে পৌঁছালে, ওই নারীর সংকেত পেয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসা ৭–৮ জনের একটি ডাকাত দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে। চালক বাস থামাতে বাধ্য হলে আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত চার ডাকাত বাসে ওঠে। তারা বিকাশ প্রতিনিধি একরাম ও আরমানকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে তাদের কাছে থাকা ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল টাকা উদ্ধার ও পুরো চক্রকে সনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোতে এমন নিখুঁত ডাকাতিকে পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার নেপথ্যে থাকা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অটোরিকশায় থাকা নারীর ভূমিকা অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাসের চালক, সহকারী কিংবা কোনো যাত্রীর এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না—তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more