জাবিতে ছাত্রীদের ওয়াশরুমে স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণকালে হাতেনাতে ধরা
Date: 2026-06-30
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ৩০, ২০২৬, ৫:০৯ এ.এম
জাবিতে ছাত্রীদের ওয়াশরুমে স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণকালে হাতেনাতে ধরা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণ করার সময় রিয়াজ আহমেদ নামের এক বহিরাগত যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই যুবক গত ছয় মাস ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গোপনে ছাত্রীদের ওয়াশরুমের ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন। আটক রিয়াজ আহমেদ ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার উত্তর বাহেরচরের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ‘ব্রাজিল বনাম জাপান’ ম্যাচ দেখছিলেন শিক্ষার্থীরা। খেলা শেষে কয়েকজন ছাত্রী টিএসসির ওয়াশরুমে যান। এ সময় ওয়াশরুম থেকে এক পুরুষকে তড়িঘড়ি করে বের হতে দেখে একজন ছাত্রীর সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে ছাত্রীরা ওই যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সন্দেহ দূর করতে তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করা হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। দেখা যায়, ওয়াশরুমের দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে তিনি ছাত্রীদের স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. সীমান্ত জানান, যুবকের ফোন চেক করার পর সেখানে প্রায় ১৪০টির মতো এমন ভিডিও পাওয়া যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে গত ছয় মাস ধরে ক্যাম্পাসের ছাত্রীদের এসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাশাখার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে প্রান্তিক ফটকে নিয়ে যান। সেখানে আশুলিয়া থানার পুলিশ এলে প্রথমে প্রশাসন বা প্রক্টরের অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পুলিশ তাকে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনে এবং ভোর পাঁচটার দিকে নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রীরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজ আহমেদ দাবি করেন, “আমি ক্যাম্পাসে খেলা দেখতে এসেছিলাম। ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় আমার এক বন্ধু ফোন নিয়ে ভিডিও করতে গিয়েছিল এবং পরে সে পালিয়ে যায়।” তবে ফোনের গ্যালারিতে গত ছয় মাসের ভিডিও থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে এসে তিনি এ ধরনের ভিডিও ধারণ করেছিলেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক একটি ঘটনা। গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ করার অপরাধে এক বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা তথা মামলা করা হবে।” আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রুজু করে গভীর তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more