প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১:০২ পি.এম
যে ৪ কারণে ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি এখন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে। নানা রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তার নকআউট পর্ব পেরিয়ে লিওনেল স্কালোনির দল এখন সেমিফাইনালে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াইয়ে ইংলিশরা কঠিন পরীক্ষা নিলেও, ফাইনালের টিকিট কাটার দৌড়ে বেশ কিছু কারণে এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। মূলত ৪টি শক্তিমত্তার ওপর ভর করে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা:
১. বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা ও স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষমতা বিশ্বকাপের নকআউটের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্নায়ুচাপ সামলানোর অভিজ্ঞতায় প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আর্জেন্টিনা। বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার জন্য লড়ছে। বিপরীতে, ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা হয়নি ইংল্যান্ডের। পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৩০ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ২২টি নকআউট ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা, যেখানে ইংল্যান্ডের জয় ১৪ ম্যাচে। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে প্রতিবারই জয়ের রেকর্ড রয়েছে আর্জেন্টিনার। এই ঐতিহাসিক আত্মবিশ্বাস আজ স্কালোনির শিষ্যদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
২. অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসেও আসরের অন্যতম সেরা পারফর্মার লিওনেল মেসি। ইতোমধ্যে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি। ম্যাচের যেকোনো মুহূর্তে একক নৈপুণ্যে চিত্রপট বদলে দেওয়ার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। আর এটাই ইংল্যান্ড শিবিরে সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। মেসির এই অতিমানবীয় সামর্থ্য নিয়ে খোদ ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। টুখেল বলেন, "বলটা তাঁর কাছে আসামাত্রই তিনি ডিফেন্সের ফাঁকফোকর খুঁজে নেন, নিজের বাঁ পায়ের জন্য জায়গা তৈরি করেন এবং তারপর একেবারে সর্বোচ্চ মানের নিখুঁত শট বা ফিনিশিং নেন। আমরা তাঁদের খেলার কিছু ধরন অবশ্যই ধরতে পেরেছি, কিন্তু আমরা যদি সেই পথগুলো বন্ধও করে দিই, তিনি ঠিকই নতুন কোনো পথ খুঁজে নেবেন কিংবা নিজেই তা তৈরি করে নেবেন।"
৩. গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করেছে আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, ম্যাচপ্রতি গড়ে ৭.৮টি করে শট নিয়ে আক্রমণে সবচেয়ে আগ্রাসী অবস্থানে আছে তারা। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১২টি বিশ্বমঞ্চের ম্যাচে অন্তত দুটি বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছে স্কালোনির দল। এমনকি শেষ চার ম্যাচে তারা প্রতিটিতেই ৩টি করে গোল করেছে। আক্রমণভাগের এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিতভাবেই আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
৪. সুযোগ কাজে লাগানোর নিখুঁত ফিনিশিং এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ফিনিশিং দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’র হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকভাবে তাদের প্রত্যাশিত গোলের (Expected Goals) চেয়েও বেশি গোল করে আসছে। অর্থাৎ, সুযোগ সৃষ্টি কম হলেও তৈরি হওয়া যেকোনো সুযোগকে গোলে পরিণত করার দক্ষতায় তারা অনন্য। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো ফরোয়ার্ডরা সামান্য জায়গা পেলেই বা দূরপাল্লার শট থেকেও গোল আদায় করে নিতে পারেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজের করা গোলটিই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। অভিজ্ঞতা, ফর্ম এবং মেসি-ম্যাজিকের সমন্বয়ে সেমিফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশ খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more