অতীতের সুখস্মৃতি ও ইতিহাস ফেরাতে নীল জার্সিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা
Date: 2026-07-15
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৫, ২০২৬, ২:১২ পি.এম
অতীতের সুখস্মৃতি ও ইতিহাস ফেরাতে নীল জার্সিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ক্রীড়াজগতে কিছু ম্যাচের আবেদন কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা রূপ নেয় চিরন্তন এক উপাখ্যানের। ফুটবল মানচিত্রে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচও তেমনই এক মহারণ। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো সিটির সেই অবিস্মরণীয় বিকেল, দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া ‘শতাব্দীর সেরা গোল’, কিংবা ১৯৯৮ আসরে ডেভিড বেকহাম ও ডিয়েগো সিমিওনের সেই আলোচিত দ্বন্দ্ব—দুই দলের দ্বৈরথ জুড়ে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের নানা নাটকীয় অধ্যায়। আর এই স্মৃতির পাতায় ঘুরেফিরে বারবার এসেছে একটি বিশেষ রঙ—আর্জেন্টিনার নীল জার্সি।
আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পরাশক্তি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর এই বিগ ম্যাচে নিজেদের চেনা সাদা-আকাশি জার্সির পরিবর্তে নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠ মাতাবেন লিওনেল মেসিরা। ইতিবাচক স্মৃতি রোমন্থন ও শুভলক্ষণ ধরে রাখতেই মূলত এই নীল জার্সির পথে হেঁটেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
স্মৃতির পাতায় আর্জেন্টিনার ‘নীল’ আর্জেন্টাইনদের কাছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সির আবেদন আবেগের চেয়েও বেশি কিছু। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনা যখন অতিমানবীয় দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল এই নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি।
এর ঠিক এক যুগ পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আবারও এই নীল জার্সিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। সেদিন সিমিওনেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল ইংলিশ তারকা ডেভিড বেকহামকে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল নীল জার্সিধারীরাই।
বিপরীতে, দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ের স্মৃতি আর্জেন্টিনার জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। ২০০২ বিশ্বকাপের সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের লাল জার্সির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা খেলেছিল ঐতিহ্যবাহী সাদা-আকাশি জার্সি পরে। সেদিন ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ফলে, ফুটবলীয় মনস্তত্ত্বে ইংলিশদের বিপক্ষে নীল জার্সিকে নিজেদের জন্য বড় প্রেরণা ও পয়মন্ত মনে করে লাতিন আমেরিকার দলটি।
ফিফার নিয়ম এবং এএফএ-এর আগাম প্রস্তুতি টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালের টিকিট আগে পাওয়ায় এই ম্যাচে কাগজ-কলমে ইংল্যান্ড হলো ‘টিম এ’। নিয়ম অনুসারে ‘টিম এ’ আগে নিজেদের জার্সি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড যদি এই ম্যাচে তাদের ‘অ্যাওয়ে’ লাল জার্সি বেছে নিত, তবে আর্জেন্টিনাকে বাধ্য হয়েই সাদা-আকাশি জার্সি পরতে হতো।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টেলিভিশনে সাদা-কালো পর্দায় খেলা দেখার সুবিধার্থে এবং বর্ণান্ধ মানুষদের দেখার সুবিধার্থে দুই দলের জার্সির রঙে স্পষ্ট পার্থক্য থাকতে হয়। এ জন্য ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামক বিশেষ প্রযুক্তিও ব্যবহার করে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইংল্যান্ড যাতে কোনো কৌশলে আর্জেন্টিনার নীল জার্সি পরায় বাধা হতে না পারে, সেজন্য সেমিফাইনালে ওঠার পরপরই ফিফার কাছ থেকে নীল জার্সি ব্যবহারের অগ্রিম অনুমতি চেয়ে আবেদন করে এএফএ। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড তাদের ‘হোম’ অর্থাৎ সাদা জার্সি, সাদা শর্টস ও সাদা মোজা বেছে নেওয়ায় আর্জেন্টিনার জন্য নীল জার্সি পরা একেবারেই সহজ হয়ে যায়। আজ মাঠে নামার সময় মেসিদের পরনে থাকবে ঐতিহাসিক সেই রঙের আদলে তৈরি নীল জার্সি, নীল শর্টস এবং নীল মোজা।
ঐতিহাসিক সেই নীল জার্সি গায়ে জড়িয়ে আর্জেন্টিনা কি পারবে ১৯৮৬ বা ১৯৯৮ সালের মতো আরও একবার ইংলিশদের স্তব্ধ করে ফাইনালে পা রাখতে? উত্তর মিলবে আজ মাঠের লড়াইয়ে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more