প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৩, ২০২৬, ৫:০৬ এ.এম
জলপথের বাহন তৈরিতে ব্যস্ত স্বরূপকাঠির কারিগররা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মৌসুমের শুরুতেই পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। মূলত বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারার হাট এবং পর্যটন মরসুমকে কেন্দ্র করেই এখানকার কুটির শিল্পে এই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পিরোজপুর ও ঝালকাঠি দেশের অন্যতম প্রধান পেয়ারা উৎপাদন এলাকা হওয়ায় বিশেষ করে স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়ন এবং পাশের ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারার চাষ হয়। এই পেয়ারাকে কেন্দ্র করে স্বরূপকাঠি ও ঝালকাঠির বিভিন্ন স্থানে বসে বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারার হাট। পেয়ারার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক এ অঞ্চলে আসেন। ছোট ছোট নৌকায় চড়ে তারা সারিবদ্ধ পেয়ারাবাগানের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এ ছাড়া এলাকাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য নদী, খাল, বিল ও জলাশয়। বর্ষা মৌসুমে এসব জলপথ পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় যাতায়াত এবং পেয়ারা, আমড়া ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে নৌকাই হয়ে ওঠে প্রধান বাহন। ফলে এ সময় নৌকার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ডুবি, চামী, একতা, বিন্না ও আটঘর-কুড়িয়ানাসহ বিভিন্ন গ্রামের নৌকা তৈরির কারিগরদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা নৌকা তৈরির বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সরেজমিনে ডুবি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির সামনেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট নৌকা তৈরির কারখানা। কোথাও কাঠ চেরাই ও ফাড়াই চলছে, কোথাও তক্তা ও গুঁড়া তৈরি করা হচ্ছে। কেউ কাঠ রন্দা দিয়ে মসৃণ করছেন, আবার কেউ তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরাও এসব কাজে সহায়তা করছেন। ডুবি গ্রামের নৌকা তৈরির কারিগর মো. রিয়াদুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নৌকা তৈরির কাজ বেড়েছে। আগে নৌকা তৈরিতে শাল, সেগুন ও সুন্দরী কাঠ বেশি ব্যবহার হলেও এখন চাম্বল, মেহগনি, কড়ই, রেইনট্রি, গুলাপ, আমড়া ও বাদাম গাছের কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। নৌকা মিস্ত্রি জামাল মিয়া জানান, দুজন শ্রমিক মিলে দিনে দুটি নৌকা তৈরি করা সম্ভব। নৌকার আকার ও কাঠের ধরনভেদে প্রতিটি নৌকা তৈরিতে খরচ হয় প্রায় আড়াই হাজার থেকে আট হাজার টাকা। তবে স্থানীয় নৌকা কারখানার মালিকরা জানান, স্থানীয় পাইকাররা এখান থেকে নৌকা কিনে আটঘর-কুড়িয়ানাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু কাঠ ও অন্যান্য উপকরণের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more