প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৩, ২০২৬, ৪:১৯ এ.এম
জুনে রাজনৈতিক ও মব সহিংসতায় প্রাণ গেল ৪০ জনের
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চলতি বছরের জুন মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব জাস্টিস বা গণপিটুনি এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ জন এবং মব সহিংসতা বা গণপিটুনিতে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোও চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুন মাসে মোট ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জুন মাসে ২২টির বেশি মামলা দায়ের হয়েছে, যাতে হাজারো নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মব জাস্টিসের নামে ৬৩টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিভিন্ন অভিযোগে গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলাকালে জনতার হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬৬ জন পুলিশ সদস্যও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনও ছিল উদ্বেগজনক; ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হুমকি এবং আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে মৃত্যু এবং দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাতজন বন্দির মৃত্যুর খবর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি ও শ্রমিক অধিকারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং শ্রমিক নির্যাতনের ৫৫টি ঘটনায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনের শাসনের অভাবই এ ধরনের সহিংসতা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অস্থিরতা আরও প্রকট হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more