প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ০৩, ২০২৬, ৪:৫৩ এ.এম
রাশিয়া্র ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিতে নিহত ২৭
অ-অ+
অনলাইন
ডেস্ক: পশ্চিমা মিত্রদের সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সরবরাহ না করার খেসারত দিতে হলো ইউক্রেনকে। চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী রুশ হামলার মুখে পড়েছে দেশটির রাজধানী কিয়েভ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে রাশিয়ার চালানো অভূতপূর্ব এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৯১ জন। এছাড়া প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবন মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ভয়াবহ এই হামলার পর নিজের চলমান আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে এসেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভে এসে তিনি হামলায় অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি নয় তলা আবাসিক ভবন পরিদর্শন করেন। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, "পশ্চিমা অংশীদারেরা যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সময়মতো রক্ষা করতো এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতো, তবে আজ এতগুলো তাজা প্রাণ এবং মানুষের ঘরবাড়ি বাঁচানো সম্ভব হতো।" কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর প্রাণহানির সংখ্যা ২৭-এ পৌঁছায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক বাসিন্দা আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। দিনিপ্রো নদীর বাম তীরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী থেকেই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেখান থেকে এখনও আটজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আজ পুরো রাজধানী জুড়ে অফিশিয়াল শোক দিবস ঘোষণা করেছেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এবারের আক্রমণে রাশিয়া সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। রাতভর তারা ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রেকর্ডসংখ্যক ৪৯৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত স্বীকার করেছেন, এবার রুশ বাহিনী অস্বাভাবিক মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় এই আকাশযুদ্ধ প্রতিহত করার হার ছিল অত্যন্ত কম। এদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, কিয়েভের সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত এই সফল অভিযান চালানো হয়েছিল। উদ্ধার অভিযান এখনও চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more